কোম্পানি আইন-১৯৯৪ আর সংশোধন না করে নতুন আইন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্বে) মো. আব্দুর রহিম খান।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) আয়োজিত ‘কোম্পানি আইনের পুনর্গঠন’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আজকে আপনাদের বিভিন্ন অভিযোগ, আবদারের কথা শুনেছি। আমি আমলাতন্ত্রের একজন হিসেবে কোম্পানি আইনের অবস্থা নিয়ে জানি। আমি বলতে চাই নতুন করে আইন সংশোধন করবে না সরকার। কোম্পানি আইন নতুন করে করা হবে। সেজন্য আমরা এরই মধ্যে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি, খসড়া তৈরি করেছি। নতুন করে আইনটি প্রকাশ করার জন্য মন্ত্রিসভায় তুলে ধরতে পারব।’
মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, ‘সম্প্রতি ২০১৩, ২০১৫ ও ২০২০ সালের কোম্পানি আইনটি সংশোধন হয়েছে। কিন্তু তবুও পুনর্গঠনের কথা উঠছে। এখন যেহেতু কনটেক্সট পরিবর্তন হয়েছে সেহেতু পরিবর্তন করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায় যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেগুলো মোকাবেলা করে বাণিজ্যের বিশ্বায়নে কাজ করবে।’
সেমিনারে আইসিএসবির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম নুরুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জয়েন্ট স্টক কোম্পানি এবং ফার্মের রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান, প্রধান আলোচক ছিলেন আইসিএসবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। আলোচক ছিলেন আইসিএসবির কাউন্সিল সদস্য মো. আজিজুর রহমান ও সেলিম আহমেদ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত কোম্পানি আইনটি প্রায় ত্রিশ বছর আগে ১৯৯৪ সালে করা হয়। আইনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আর কোনো আপডেট করা হয়নি। যে কারণে টেকসই বাণিজ্য, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তানেও কোম্পানি আইন পরিবর্তীত হয়েছে। কোম্পানি আইন এমনভাবে হতে হবে যেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈশ্বিক বাজারে কোম্পানির প্রবেশধিকার সহজ করতে ভূমিকা পালন করে। তাই সঠিক কাজের ধারা সমুন্নত করতে এবং ব্যবসায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের পুনর্গঠন দরকার।
এছাড়াও কোম্পানির সচিব পর্যায়ে দেশী জনবল নিয়োগ দেয়া, আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার, বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরিতে অটোমেডেট ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানান বক্তারা।
আইসিএসবি আয়োজিত সেমিনার শেষে প্রতিষ্ঠানটির ৯ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আহসান এইচ মনছুরসহ সরকারের সচিব, কোম্পানি সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।